বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলের প্রধান হতে পারবেন কি না—এই প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিবিসি বাংলায় প্রচারিত একান্ত সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বিবিসির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়—সংস্কারের কিছু বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতসহ কয়েকটি দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে এক ব্যক্তি একাধিক পদে থাকতে পারবেন না—এই প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির আপত্তি। এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলের প্রধান থাকলে কি স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পথ তৈরি হয় না?
এর জবাবে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য অবশ্যই কিছু বিষয়ে সংস্কার প্রয়োজন। একজন ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না—এই প্রস্তাব বিএনপিই প্রথম দিয়েছে। তখন অন্যরা সংস্কারের কথাও বলেনি।”
তিনি বলেন, “এখন যখন সবাই সংস্কারের কথা বলছে, তখন বিএনপি কোনো বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলে সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি সব বিষয়ে একমত হই, তাহলে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো কোথায়? ভিন্নমত থাকলেই তো গণতন্ত্র টিকে থাকে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা দ্বিমত জানালেই কেউ যদি বলে গণতন্ত্র নেই—তাহলে সেটি তো একধরনের একনায়কতন্ত্র। গণতন্ত্র মানেই মতবিরোধ, বিতর্ক, আলোচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।”
বিবিসির আরও এক প্রশ্নে বলা হয়—২০২৩ সালে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়েছিল। তাহলে এখন আপত্তির কারণ কী?
জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। ভারসাম্য রাখতে হবে—এটা আমরা তখনও বলেছি, এখনো বলছি। তবে যতটুকু ভারসাম্য প্রয়োজন, সেটি বাস্তবতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।”
এক ব্যক্তি তিন পদে একসঙ্গে থাকতে পারবেন কি না—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা কখনো বলিনি, এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। এটা অন্যদের প্রস্তাব। স্বৈরাচার তৈরি হবে—এমন আশঙ্কা আমরা দেখি না।”